×

কুরআনের সার্বজনীনতা

কুরআন মাজীদ, মানবজাতির জন্য একটি সর্বজনীন জীবন বিধান। এটি কেবল আরব জাতির জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য। কুরআনের সার্বজনীনতা এর দিকনির্দেশনা, নীতিমালা এবং আল্লাহর বানীকে সকল যুগে এবং সকল মানুষের জন্য প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।

১. কুরআনের সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্যতা

আল্লাহ তাআলা কুরআনকে সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়েত হিসাবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ বলেন:

“এই কুরআন মানবজাতির জন্য একটি হেদায়েত এবং নিশ্চিত জ্ঞানীদের জন্য স্পষ্ট প্রমাণ।”
(সূরা জাসিয়া: ২০)

এই আয়াত প্রমাণ করে যে, কুরআনের শিক্ষাগুলো শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট জাতি বা সময়ের জন্য নয়, বরং এটি চিরকালীন এবং সর্বজনীন।

২. জাতি, ভাষা এবং সংস্কৃতির ঊর্ধ্বে কুরআন

কুরআনের বার্তা জাতি, ভাষা এবং সংস্কৃতির ঊর্ধ্বে। এটি এমন এক গ্রন্থ, যা পৃথিবীর সকল মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।

  • জাতি ও বর্ণের জন্য নয়: কুরআন কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা গোষ্ঠীর জন্য প্রেরিত হয়নি। এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য। “আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসাবে।”
    (সূরা সাবা: ২৮)
  • ভাষাগত সার্বজনীনতা: যদিও কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, তবুও এর বার্তা প্রতিটি ভাষাভাষীর জন্য। পৃথিবীর প্রতিটি ভাষায় কুরআনের অনুবাদ হয়েছে এবং এর মর্মার্থ সব সংস্কৃতিতে প্রযোজ্য।

৩. সকল যুগের জন্য প্রাসঙ্গিকতা

কুরআনের নীতিমালা এবং নির্দেশাবলী শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, বরং চিরকালীন।

  • অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ: “এই গ্রন্থে আমরা কোনো কিছু বাদ দেইনি।”
    (সূরা আনআম: ৩৮)
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগেও প্রাসঙ্গিক: কুরআনের অনেক আয়াত আধুনিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি আবিষ্কারের সাথে মিলে যায়। এটি প্রমাণ করে যে, কুরআনের বার্তা সর্বদা প্রাসঙ্গিক।

৪. কুরআনের মূল্যবোধ ও নীতিমালা

কুরআনের সার্বজনীনতার অন্যতম কারণ এর মূল্যবোধ এবং নীতিমালা।

  • ন্যায়বিচার: কুরআন ন্যায়বিচারের উপর জোর দেয়।
    “আল্লাহ ন্যায়বিচার এবং উত্তম আচরণ করতে নির্দেশ দেন।”
    (সূরা নাহল: ৯০)
  • মানবাধিকার: কুরআন মানবাধিকারের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে। এটি সব মানুষের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করে।
  • সমাজকল্যাণ: কুরআন সামাজিক সাম্য এবং দারিদ্র বিমোচনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে।

৫. বিভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি

কুরআনের বার্তা কেবল মুসলমানদের জন্য নয়, বরং অন্য ধর্মের অনুসারীদের প্রতিও উদার এবং সহনশীল।

  • ধর্মীয় সহিষ্ণুতা: কুরআন বলে: “তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, এবং আমার ধর্ম আমার জন্য।”
    (সূরা কাফিরুন: ৬)
  • আলোচনার আহ্বান: কুরআন বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে আলোচনা এবং বোঝাপড়ার নির্দেশ দেয়।
    “তুমি প্রজ্ঞার সাথে এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে মানুষকে তোমার প্রভুর পথে আহ্বান কর।”
    (সূরা নাহল: ১২৫)

৬. কুরআনের সার্বজনীন জ্ঞান

কুরআনের জ্ঞান ও শিক্ষাগুলো এমন যে তা প্রতিটি মানুষের জীবনে প্রাসঙ্গিক।

  • পারিবারিক জীবন: কুরআনে পারিবারিক জীবনের সঠিক দিকনির্দেশনা রয়েছে। “তোমরা তোমাদের পরিবারকে আগুন থেকে রক্ষা কর।”
    (সূরা তাহরিম: ৬)
  • অর্থনীতি: সুদ মুক্ত অর্থনীতির ওপর কুরআনের দিকনির্দেশনা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
    “আল্লাহ সুদকে নিষিদ্ধ করেছেন এবং ব্যবসাকে বৈধ করেছেন।”
    (সূরা বাকারা: ২৭৫)
  • ন্যায়বিচার ও শাসন: কুরআনে শাসন ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার এবং সততার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

৭. কুরআনের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি

কুরআন অনেক বৈজ্ঞানিক তথ্যের প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছে, যা আধুনিক যুগে প্রমাণিত হয়েছে।

  • মহাবিশ্বের সৃষ্টি: “আকাশমণ্ডলী এবং পৃথিবী একসাথে ছিল, তারপর আমরা তাদের আলাদা করেছি।”
    (সূরা আম্বিয়া: ৩০)
  • মানুষের সৃষ্টি: ভ্রূণের বিকাশ নিয়ে কুরআনের তথ্য আধুনিক জীববিজ্ঞানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
    (সূরা মুমিনুন: ১৩-১৪)

I am Abdur Rob , BBA , MBA From University of Rajshahi . Now i am working as a Deputy Manager of Bangladesh Sugar and Food Industries Corporation .

2 comments

comments user
মো. দেলোয়ার হোসেন

কুরআন , ইসলামি অর্থনীতি ও সুদ সম্পর্কে কি বলেছে তার বিস্তারিত থাকলে সবাই জানতে পারতো।

    comments user
    abdurrob

    ইনশাআল্লাহ, এ বিষয়ে লিখবো

Post Comment